অনেক প্রফেশনাল যখন নতুন চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যান, তখন সবচেয়ে বড় যে জায়গাটায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েন, সেটা হলো স্যালারি নেগোসিয়েশন।
ভয়, অস্বস্তি আর “না হয় হাতছাড়া হয়ে যাবে” এই মানসিকতার কারণে বেশিরভাগ মানুষ নিজের প্রকৃত ভ্যালুর চেয়ে অনেক কমে রাজি হয়ে যান।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
👉 আপনি চাকরি চাইতে যাননি,
👉 আপনি আপনার স্কিল, আউটপুট আর অভিজ্ঞতার ভ্যালু অফার করতে যান।
এই লেখায় আমরা দেখবো—
-
ইন্টারভিউ বোর্ড স্যালারি নিয়ে কীভাবে চিন্তা করে
-
তারা কোন প্রশ্নগুলো করে
-
আর আপনি কীভাবে স্মার্ট ও প্রফেশনালভাবে নিজের ভ্যালু প্রেজেন্ট করবেন।
✅ সবচেয়ে কমন প্রশ্ন: “আপনি আগের স্যালারির চেয়ে এত বেশি কেন চাইছেন?”
ধরা যাক, আপনার বর্তমান বেতন ৫০,০০০ টাকা।
নতুন জায়গায় আপনি ৮০,০০০ টাকা বললেন।
ইন্টারভিউ বোর্ড প্রায় নিশ্চিতভাবেই জিজ্ঞেস করবে—
👉 “আপনি ৫০ হাজার পাচ্ছেন, এখানে ৮০ হাজার কেন আশা করছেন?”
এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হয়—
মানুষ তখন নার্ভাস হয়ে পড়ে, ডিফেন্সিভ হয়ে যায়, বা অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যায় ঢুকে পড়ে।
✔ স্মার্ট উত্তর কী হবে?
আপনার উত্তর কখনোই শুধু আগের কোম্পানির উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত না।
আপনার উত্তর হবে ভ্যালু-বেসড, যেমন—
“আমি যে ফিগারটা বলছি, সেটা আমার আগের কোম্পানির বেতনের কারণে না। গত কয়েক বছরে আমি যে স্কিল, রেসপনসিবিলিটি এবং রেজাল্ট ডেলিভারি করেছি, বর্তমান মার্কেট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সেটার ভ্যালু এই রেঞ্জেই পড়ে। আমি এমন একটি জায়গায় যেতে চাই যেখানে আমার কাজের ইমপ্যাক্ট এবং রোল অনুযায়ী সঠিকভাবে ভ্যালু করা হবে।”
এখানে আপনি বোঝালেন—
✔ আপনি সংখ্যা ছুঁড়ে দিচ্ছেন না
✔ আপনি মার্কেট বোঝেন
✔ আপনি নিজের ভ্যালু জানেন
✅ “আপনার তো মাত্র কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা!” – এই কথার জবাব কী হবে?
এই জায়গায় অনেকেই নিজেকে ছোট করে ফেলেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
👉 এক্সপেরিয়েন্স মানে শুধু বছর নয়,
👉 এক্সপেরিয়েন্স মানে আউটপুট, রেজাল্ট আর প্রবলেম সলভিং।
✔ প্রফেশনাল উত্তর হবে এমন:
“আমি এক্সপেরিয়েন্সকে শুধু সময় দিয়ে মাপি না। আমি মাপি—আমি কী সমস্যা সমাধান করেছি, কী রেজাল্ট এনেছি এবং আমার কাজ ব্যবসায় কী প্রভাব ফেলেছে। আপনি চাইলে আমার প্রজেক্ট ও এচিভমেন্টগুলো রিভিউ করে দেখতে পারেন, সেগুলো এই রোলের ভ্যালুর সাথে ম্যাচ করে কিনা।”
এতে আপনি ডিফেন্সে গেলেন না।
আপনি আলোচনাকে ঘুরিয়ে নিলেন value discussion-এ।
✅ বাস্তবতা: কোম্পানি সবসময় কম দিতে চাইবে
এটা কোনো খারাপ মানসিকতা না, এটা ব্যবসা।
প্রতিটি কোম্পানির লক্ষ্য—
✔ ভালো ট্যালেন্ট নেওয়া
✔ কিন্তু যত কম কস্টে সম্ভব
আর আপনি যেহেতু অলরেডি চাকরিতে আছেন, তারা ধরে নেয়—
“অল্প বাড়ালেই হয়তো রাজি হয়ে যাবে।”
এখানেই আপনার স্ট্র্যাটেজি দরকার।
✅ যদি তারা আপনার এক্সপেক্টেশন না মানে—তখন কী করবেন?
অনেকেই এখানেই ভুল করেন। সঙ্গে সঙ্গে “ঠিক আছে” বলে দেন।
স্মার্ট প্রফেশনালরা কী করেন?
✔ ধাপ ১: সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন না
বলুন:
“আমি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমাকে ১–২ দিন সময় দিলে আমি চিন্তা করে নিশ্চিত উত্তর দেবো।”
এতে বোঝায়—
👉 আপনি ইমোশনাল নন
👉 আপনি desperate নন
👉 আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেন
✔ ধাপ ২: জয়েনিং ডেট কৌশল
যদি অফার আসে কিন্তু ফিগার আপনার স্ট্যান্ডার্ডে না হয়, আপনি বলতে পারেন—
“আপনাদের টিম ও কাজের ধরন আমার ভালো লেগেছে। আমি যদি জয়েন করি, তাহলে তিন সপ্তাহ পরে জয়েন করতে চাই।”
এতে তারা বুঝে—
👉 আপনার হাতে অপশন আছে
👉 আপনি চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না
অনেক সময় এখানেই আবার রিভিউ হয়।
✅ “স্যালারি স্লিপ দেখান” — এই অনুরোধ এলে কী করবেন?
এটা সেনসিটিভ জায়গা।
আপনি সরাসরি কনফ্লিক্টে যাবেন না, আবার নিজেকে ছোটও করবেন না।
✔ প্রফেশনাল টোনে বলুন:
“আমার বর্তমান প্রতিষ্ঠানে স্যালারি ইনফরমেশন কনফিডেনশিয়াল। আপনারাও নিশ্চয়ই আপনার এমপ্লয়িদের তথ্য বাইরে শেয়ার করতে দেন না।”
তারপর যোগ করতে পারেন—
“তবে আপনারা যদি আমার এক্সপেরিয়েন্স, স্কিল ও আউটপুটের উপর ভিত্তি করে ডিসকাশন করেন, আমি সেটাকে বেশি প্রফেশনাল মনে করি।”
এতে আপনি—
✔ সম্মান রাখলেন
✔ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন
✔ আলোচনাকে আবার ভ্যালুতে ফিরিয়ে আনলেন
✅ “আপনি জব সুইচ করতে চাচ্ছেন কেন?” — এই প্রশ্নটা গোল্ডেন চান্স
এখানে ৯০% মানুষ generic উত্তর দেয়।
আপনি যদি আলাদা হতে চান—নাম্বার, রেজাল্ট ও ইমপ্যাক্ট ব্যবহার করুন।
✔ ভালো উত্তর মানে:
-
কী সমস্যা ছিল
-
আপনি কী করলেন
-
কোম্পানির কী লাভ হলো
-
এখন আপনি কেন বড় স্কেলে কাজ করতে চান
উদাহরণ স্টাইল:
“আমার বর্তমান রোলে আমি শুধু অপারেশন চালাইনি, আমি প্রোসেস ইমপ্রুভমেন্টে কাজ করেছি, কস্ট কমিয়েছি, এবং কিছু মেজারেবল রেজাল্ট এনেছি। এখন আমি এমন একটি এনভায়রনমেন্টে যেতে চাই যেখানে আমি এই অভিজ্ঞতাগুলো বড় স্কেলে প্রয়োগ করতে পারবো।”
এতে বোঝায়—
👉 আপনি চাকরি ছাড়ছেন না
👉 আপনি গ্রোথের দিকে যাচ্ছেন
⚠️ দুটি জিনিস কখনো করবেন না
❌ নিজের এচিভমেন্ট বানিয়ে বলবেন না
❌ ফাঁকা বুলি মারবেন না
কারণ ইন্টারভিউ বোর্ড প্রশ্ন করলে—
👉 প্রমাণ দিতে না পারলে বিশ্বাস ভেঙে যায়।
✅ যা করলে স্যালারি নেগোসিয়েশন শক্ত হয়
✔ নিজের কাজের লিস্ট লিখে রাখা
✔ রেজাল্ট নাম্বারে কনভার্ট করা
✔ মার্কেট রিসার্চ
✔ আগেই উত্তর প্র্যাকটিস
✔ কনফিডেন্ট বডি ল্যাঙ্গুয়েজ
ভালো নেগোসিয়েশন আসে প্রিপারেশন থেকে, কথা দিয়ে না।
🎯 শেষ কথা
জব সুইচ মানে পালানো না।
জব সুইচ মানে নিজেকে সঠিক জায়গায় সঠিক ভ্যালুতে পজিশন করা।
আপনি যদি নিজের স্কিল, আউটপুট আর ইমপ্যাক্ট জানেন—
তাহলে স্যালারি নেগোসিয়েশন হবে ভয় না, হবে আপনার স্ট্রেংথ।
নিজেকে কম দামে বিক্রি করবেন না।
নিজেকে ভ্যালু হিসেবে প্রেজেন্ট করুন।
লিখেছেনঃ তৌহিদুর রহমান
Popular Searches: salary negotiation bangladesh, job switch salary negotiation, how to negotiate salary in interview, salary negotiation tips bd, job change salary guide, interview salary negotiation, salary discussion hr, salary negotiation interview bangla, hr salary negotiation questions, job switch salary increase, how to ask expected salary, professional salary negotiation, salary negotiation mistakes, interview salary discussion tips



