কীভাবে ইন্টারভিউ ভীতি দূর করতে হবে?

কর্মদক্ষতা

ইন্টারভিউ ভীতি অনেকের রয়েছেন। যারা ইন্টারভিউ বোর্ড এ উপস্থিত হতে ভয় পান এবং ইন্টারভিউ নিয়ে তাদের একটা ভীতি কাজ করে। আজকে আমাদের আলোচনা কেউ কীভাবে ইন্টারভিউ ভীতি থেকে দূরে থাকতে পারবে।

প্রথমত নিজের ভিতরে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে হবে। ইন্টারভিউ তে সাধারনত দুটি পক্ষ থাকে এক পক্ষ ইন্টারভিউ দেন আর অপর পক্ষ যারা থাকেন তারা ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন। সাধারনত ইন্টারভিউভীতি দুপক্ষের মধ্যেই খানিকটা থাকে। মনে রাখতে হবে ইন্টারভিউ দেয়াকালীন এই ভীতি যত আপনার উপর কাজ করবে আপনার ইন্টারভিউ এর গুনগত মান তত কমবে। যদি ভাল ইন্টারভিউ দিতে চান তাহলে ইন্টারভিউভীতি থেকে আপনাকে দূরে থাকতেই হবে। দ্বিতীয়ও যেই বিষয়টিতে আপনি ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন সেই বিষইয়টিতে আপনার দক্ষতা এবং যোগ্যতা কতটুকু আছে তা আগে জেনে নিতে হবে। নিজের সীমাবদ্ধতা থাকলে সেই জায়গাগুলো আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে এই দুর্বল জায়গাগুলো কখনো আপনার কাছে আসতে না পারে। ধরুন যে বিষয়টি আপনি কম জানেন ইন্টারভিউ বোর্ড এ সেই বিষয়টির কথা উচ্ছারন করবেন না। আর যে বিষয়টি আপনি ভাল করে জানেন সে বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। কখনও ভাববেন না যারা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন বা ইন্টারভিউ বোর্ড এ আছেন তারা কোনো না কোনোভাবে আপনাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে।

মনে রাখতে হবে এটি একটি ইন্টারভিউ বোর্ড এখানে সমান মূল্য এবং সমান সম্মানদিয়েই আপনাকে পশ্ন করা হচ্ছে। আর যদি মনে করেন আপনি যথাযত সম্মান পাচ্ছেন না বা নিজেকে একটু ছোট মনে করছেন। তাহলে বড় করে একটা শ্বাস নিন এবং নিজের ভিতরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন। ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকতে সময় প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহন করুন। দরজাটি কিভাবে খুলছে এবং কিভাবে বন্ধ হচ্ছে সেটির দিকে লক্ষ রাখুন। চেয়ারে বসার সময় যাতে শব্দ না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা রয়েছেন তাদের যথাযোগ্যভাবে সম্ভার্শন করুন। ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার আগে বেশি পানি পান করবেন না। অর্থাৎ বেশি উদ্বিগ্নতার মধ্যে বেশি বেশি পানি পান করলে তখন নানাধরনের উদ্বিগ্নতা বা অস্থিরতা বাড়তে পারে একে water Intoxication বলা হয়। ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার আগে জামা-কাপরগুলো ঠিক করে রাখবেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন এবং যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলবেন। যাদের সাথে কথা বলছেন কখনোই মাথা নামিয়ে বা নিচু হয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন না এবং কোন কথা বলার সময় যদি আটকে যায় তাহলে অনুমতি নিয়ে আবারও প্রথম থেকে শুরু করবেন। ইন্টারভিউ বোর্ড ভীতিকর কিছু না। যেই বিষয়টি আপনি জানেন সেই বিষয়টির উপরই আপনি ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। যে বিষয়ে আপনি দক্ষ/যোগ্য নন সে বিষয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন না এটি মাথায় রাখবেন। এটাও মনে রাখতে হবে যারা প্রশ্ন করছে তারাও কখনো কখনো আপনার চাইতে কমও জানতে পারেন।

আপনার ইন্টারভিউ বোর্ডে ভয়ভীতি কাটানোর জন্য এ কয়েকটি টিপস ও মাথায় রেখে ইন্টারভিউ দিবেন।

১. আপনি যা জানেন ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা আছেন তাদেরকে তা ভাল করে বুঝাবেন যাতে তারা বুঝতে পারে আপনি তাদের কোম্পানিতে ভুমিকা রাখতে পারবেন।

২. যে বিষয়ে ইন্টারভিউ দিবেন তা বেশি বেশি অনুশীলন করুন। কথায় আছে PRACTICE MAKES A MAN PERFECT. তাই বেশি বেশি অনুশীলন এর বিকল্প নেই।

৩. চাকরির জন্য আবেদন করার সময় এবং সাক্ষাত্কারের জন্য যাওয়ার সময়, আপনার আবেদনের মধ্যে এবং ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে নিজের মত করে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. নিজেকে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য কিছুক্ষন সময় দিন অথাৎ ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে মনকে শিথিল করার জন্য নিজেকে 30 মিনিট সময় দিন।

৫. আপনি যদি চাকরির ইন্টারভিউতে যান এই ভেবে যে আপনি চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ পাননি, তাহলে আপনি নিজেকে উপযুক্ত সুযোগ দিচ্ছেন না। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করুন।

ইন্টারভিউ ভয় এমন কিছু যা আমাদের ক্যারিয়ারের পথ বিকাশের সময় আমাদের প্রায় সকলকেই মোকাবেলা করতে হবে। তাই এই কয়েকটি সহজ সাক্ষাত্কার টিপস ব্যবহার করে আপনি এটি কাটিয়ে উঠতে পারেন। আত্মবিশ্বাসী হন, আপনার নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রাখুন!

Leave a Comment